ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মিশন হাসপাতালে ভর্তি ছাত্রদল নেতা সানি রাণীশংকৈলে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা খতিবউদ্দীনের শেষ বিদায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন পুঠিয়ায় রায়হানা প্যাথলজি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, ক্লিনিককে ১৫ দিনের সময় রাবিতে শিক্ষাবৃত্তি পেল চার বিভাগের ২৬ মেধাবী শিক্ষার্থী ইমরান বিদেশি নাগরিক, ভারতের মাটিতে রাজনীতি করার অধিকার নেই! অভিনেতাকে ভর্ৎসনা করে ক্ষমাও চাওয়াল বম্বে হাই কোর্ট শব্দবাজি-বিরোধী দীপাবলি পালনের ভিডিয়োয় দীয়ার উপস্থিতিতে বিতর্ক! মুখ খুললেন অভিনেত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম আবারও সৌদিতে সতর্কতা জারি চৌদ্দগ্রামে ১১১ কেজি গাঁজা ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ৪ চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী জীবন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ গ্রেপ্তার ৩ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়ার সুযোগ নিষিদ্ধ কৃষক লীগের আরও এক নেত্রী ধরা গলাচিপায় হাফ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার নাস্তার লোভ দেখিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, অভিযুক্তকে গণধোলাই ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন আমিনুল, এবার আইন বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিওধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ইমাম ধরা নাটোরের লালপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু নেশার টাকা না পেয়ে তৃতীয় স্ত্রীকে ‘পরপারে’ পাঠালেন কুদ্দুস খুলনায় নদীর পাড়ে একসঙ্গে মিলল গুলিবিদ্ধ দুই মরদেহ, যা বলছে পুলিশ

‘লভ হোটেলে’ থাকলে মেলে কন্ডোম থেকে আদরপুতুলও!

  • আপলোড সময় : ৩০-০৬-২০২৫ ০১:০৫:৫১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০৬-২০২৫ ০১:০৫:৫১ অপরাহ্ন
‘লভ হোটেলে’ থাকলে মেলে কন্ডোম থেকে আদরপুতুলও! ছবি: সংগৃহীত
জাপান বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চেরিফুলের স্নিগ্ধ সৌন্দর্য, সবুজ গন্ধওয়ালা মাচা চা, রঙিন উজ্জ্বল কিমোনো। আর খাদ্যরসিক হলে সুশি, টেম্পুরা, স্টিকি রাইস, কিমবাপের মতো খাবারের খনি। জাপানের অধিকাংশ শহরের চেহারা বড় নিখুঁত, নিটোল।

আর এই সাজানো-গোছানো শহরের পিছনে রয়েছে আরও একটি দুনিয়া। প্রেমের দুনিয়া। সেই দুনিয়ায় প্রেমের জন্য সবারই অবাধ স্বাধীনতা। নেই কোনও নিয়মের চোখরাঙানি, নেই বাঁকা চাহনি। এই ভিন্ন দুনিয়ায় প্রেম, রোমাঞ্চ থেকে যৌনতা সবটাই খোলা আকাশের মতো। সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে নিয়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটানোর অফুরন্ত সুযোগ।

রাজধানী টোকিয়ো এবং ওসাকার বুকেই রয়েছে জাপানের বিখ্যাত ‘লভ হোটেল’। বহু আগে থেকে এই ধরনের হোটেলের চল থাকলেও এই ধরনের প্রথম আধুনিক হোটেলটি জাপানে খোলে ১৯৬৮ সালে। ওসাকা শহরে। সেই হোটেলটির নাম ছিল ‘হোটেল লভ’। সেই থেকেই এই ধরনের 

শিবুয়া বা ওসাকার অলিগলিতে, নিয়ন আলোয় সাজানো হোটেলগুলিতে যতটাই নিষিদ্ধ হাতছানি, ঠিক ততটাই রংচঙে এর অন্দরসজ্জা। হোটেলের কামরাগুলি থিমনির্ভর। আর সেই সমস্ত ঘরের অন্দরসজ্জা তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। প্রেমের উদ্দামতার সঙ্গে রয়েছে নিষিদ্ধ হাতছানি।

কোথাও ঘরের রূপ দুর্গের মতো, কোনওটা রাজপ্রাসাদ। যুগলদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে রয়েছে ‘হ্যালো কিটি’র থিমযুক্ত আদরকক্ষ। আবার কল্পবিজ্ঞানের ভক্ত যাঁরা, তাঁরা ‘সায়েন্স ফিকশন পড’কে বেছে নেন নিভৃতে সময় কাটানোর জন্য। জেলের কক্ষ, হাসপাতালের মতো সজ্জিত কক্ষও বেছে নেন বহু যুগল। এমনকি এমন হোটেলের কামরা রয়েছে যেখানে ঢুকলে মনে হবে সমুদ্রের নীচে রয়েছেন।

জাপানি প্রেমের হোটেলের ধারণাটি নতুন কিছু না, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে। ষোড়শ শতাব্দী থেকেই এর চল শুরু হয় নিশীথ সূর্যের দেশে। ১৬০৩ সাল থেকে ১৮৬৮ সাল পর্যন্ত সময়কালকে জাপানে এডো যুগ হিসাবে ধরা হয়। সেই এডো যুগেই শিকড় গেড়েছিল গোপন ভালবাসার অস্থায়ী ঠিকানা। সে যুগে প্রকাশ্যে ভালবাসা খুব একটা সুনজরে দেখত না সমাজ।

তাই প্রেমিক-প্রেমিকারা গোপনে মেলামেশার জন্য খুঁজে নিয়েছিল এক বিকল্প আস্তানা। সেই পথের প্রবেশ ও প্রস্থানের ঠিকানা গোপনই থাকত। কালে কালে সেই আস্তানার কলেবরে পড়েছে আধুনিক যুগের প্রলেপ। নিষিদ্ধ প্রেমের ঠিকানা বদলে রূপ নেয় চা-ঘরে, ধীরে ধীরে নিয়ন আলোয় সজ্জিত হয়ে সেগুলি বদলে যায় লভ হোটেলে।

দিনের বেলায় আর পাঁচটি হোটেলের সঙ্গে কোনও পার্থক্য নেই এই বিশেষ হোটেলগুলির। কিন্তু অন্ধকার নামতেই রূপ বদলে যায় হোটেলগুলির। উজ্জ্বল আলোয় সেজে ওঠে হোটেলগুলি।

ঘনিষ্ঠ মুহূর্তকে বৈচিত্রে ভরিয়ে তুলতে এই হোটেলে এমন সব জিনিস রয়েছে, যা সাধারণ হোটেলের থেকে আলাদা। কোথাও ঘরের ছাদ থেকে দেওয়াল সব কিছু মোড়া রয়েছে আয়নায়, কোথাও হোটেলের দেওয়াল এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনও শব্দ বাইরে না যায়।

প্রেমের হোটেলগুলিতে খুঁজে পাওয়া যায় নাটকীয়তা। কক্ষগুলিতে প্রায়শই নিয়ন আলো, শরীর ডুবে যাওয়া গদির বিছানা, বিলাসবহুল শৌচালয় থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত টিভি, ‘কারাওকে রুম’ ইত্যাদি থাকে। এর বিশেষ ভাবে নকশা করা ঘরগুলি প্রাপ্তবয়স্কদের কামনা-বাসনা তৃপ্ত করার সেরা উপায় বললে অত্যুক্তি হয় না।

ঘরের ভিতরেই রয়েছে পার্কের মতো আস্ত একটি ‘স্লিপ’। কোনও কোনও হোটেলে আলমারি ভর্তি আদরপুতুল, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলোর সামগ্রীও মেলে। কোথাও বিনামূল্যে দেওয়া হয় কন্ডোম। কোনও কোনও হোটেলে সাধারণ ঘরের সঙ্গেই বিশেষ কিছু ঘর আলাদা করা থাকে, যেখানে ঘণ্টার হিসাবে ভাড়া নেওয়া হয়।

যদি বিদেশি কোনও পর্যটক দেখেন যে, একটি হোটেলে দুই ধরনের ভাড়ার তালিকা দেওয়া রয়েছে, তবে বুঝে নিতে হবে সেটি এই বিশেষ ধরনের হোটেল। বুকিং বেশির ভাগই অনলাইনে বা ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে করা হয়। হোটেলের কর্মীদের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ করার দরকার পড়ে না। নিভৃত সময় যাপনের সমস্ত উপকরণ কামরাতেই মজুত থাকে।

হোটেলগুলি প্রায়শই এমন ভাবে নকশা করা হয় যাতে গ্রাহককে অন্য কারও সঙ্গে রাস্তা পার হতে বা মুখোমুখি হতে না হয়। চাইলে কেউ গাড়ি থেকে সরাসরি উপরে ওঠার জন্য একটি লিফ্‌ট ব্যবহার করে কামরায় ঢুকে পড়তে পারেন।

এ সব হোটেলে শুধুমাত্র দম্পতি বা প্রেমিক-প্রেমিকারাই নিভৃতে সঙ্গলাভ করতে যান এমন নয়। অনেক সময় ক্লান্ত মানুষ একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্যও পা দেন হোটেলগুলিতে। আবার কেউ কেউ যান শুধু সেই অদ্ভুত থিমড ঘরগুলো দেখতে। আপনিও চাইলে যেতে পারেন শুধুমাত্র দেখার জন্য। এক ঘণ্টার জন্যও ভাড়া পাওয়া যায় হোটেলের ঘর।

নিষিদ্ধ গন্ধ থাকলেও এই ধরনের হোটেল বহু মানুষের রুজিরুটির প্রধান মাধ্যম। বেসরকারি হিসাব বলছে, বর্তমানে গোটা জাপান জুড়ে এই ধরনের ‘লভ হোটেল’ রয়েছে ৩৭ হাজারেরও বেশি। টোকিয়ো ও ওসাকার হোটেলগুলি সম্মিলিত ভাবে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের ব্যবসা করে। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৫ জনের কারাদণ্ড সহ গ্রেপ্তার ২৩

নগরীজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৫ জনের কারাদণ্ড সহ গ্রেপ্তার ২৩